❕❕❕”তারাবি নামাজ” যত প্রশ্ন ও উত্তর”
✔✔✔রমজান মাস হল মুসলিমদের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস। এই মাসে একটি ভাল কাজের বিনুময় ১০ থেকে ৭০০ গুন পর্যন্ত দেয়া হয়। আর রমজান মাসের বিশেষ আমলের মাঝে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ আমল হল “তারাবির নামাজ” আসুন আজ আমরা তারাবির নামাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।
📖📖📖#তারাবীহ : মূল ধাতু رَاحَةٌ (রা-হাতুন) অর্থ : প্রশান্তি। অন্যতম ধাতু رَوْحٌ (রাওহুন) অর্থ : সন্ধ্যারাতে কোন কাজ করা। সেখান থেকে ترويحة (তারবীহাতুন) অর্থ : সন্ধ্যারাতের প্রশান্তি বা প্রশান্তির বৈঠক; যা রামাযান মাসে তারাবীহর ছালাতে প্রতি চার রাক‘আত শেষে করা হয়ে থাকে। বহুবচনে (التراويح) ‘তারা-বীহ’ অর্থ : প্রশান্তির বৈঠকসমূহ (আল-মুনজিদ)
📖📖📖#তাহাজ্জুদ : মূল ধাতু هُجُوْدٌ (হুজূদুন) অর্থ : রাতে ঘুমানো বা ঘুম থেকে উঠা। সেখান থেকে تَهَجُّدٌ (তাহাজ্জুদুন) পারিভাষিক অর্থে রাত্রিতে ঘুম থেকে জেগে ওঠা বা রাত্রি জেগে ছালাত আদায় করা (আল-মুনজিদ)।
📖📖📖তারাবির নামাজ না পড়লে কি রোজা হবে না?
✔✔✔উত্তরঃ- তারাবির সঙ্গে সিয়ামের কোনো সম্পর্ক নেই। রোজা হয়ে যাবে। তারাবি একটা ফজিলতের বিষয়। এই নামাজ সুন্নাত। আর সিয়াম একটা ফরজ এবাদত।
কিন্তু দুটি ভিন্ন ইবাদত। তারাবির নামাজ যদি কেউ আদায় করে না থাকেন তাহলে যে তার সিয়াম হবে না বা তার ফজিলত থেকে মাহরুম হয়ে যাবেন— এমন বক্তব্য সঠিক নয়। তার সিয়াম হয়ে যাবে— এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ফরয নামাজের পরে সর্বোত্তম নামাজ হ’ল রাত্রির (নফল) নামাজ’।
মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩৯ ‘সওম’ অধ্যায়-৭, ‘নফল সিয়াম’ অনুচ্ছেদ-৬।
তারাবির নামাজ পুর বছরের গুনাহ্ মাপের সাথে সম্পৃক্ত।
রসূল (সঃ) বলেন যে “ব্যক্তি রামাযানের রাত্রিতে ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় রাত্রির নামাজ আদায় করে, তার বিগত সকল গোনাহ মাফ করা হয়’।”
মুসলিম, মিশকাত হা/১২৯৬ ‘রামাযান মাসে রাত্রি জাগরণ’ অনুচ্ছেদ-৩৭।
তাই রমজান মাসে সিয়ামের যত গুরুত্ব রয়েছে, ততটুকু তারাবির নামাজেরও গুরুত্ব রয়েছে। ফজিলতের দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই। এতো কষ্ট করে রোজা রেখে রোজার সমতুল্য সোয়াব কেন হারাবেন? একবার ভাবুন পুর দিন না খেয়ে থাকা বেশি কষ্ট নাকি ৩০ মিনিট থেকে ০১ ঘন্টা নামাজ পড়া বেশি কষ্ট।
📖📖📖রমজান মাসে তারাবির ও তাহাজুদ নামাজ পড়তে হবে কি?
✔✔✔উত্তরঃ- না। রমজান মাসে শুধু তারাবির নামাজ আদায় করতে হবে।
রাত্রির বিশেষ নফল ছালাত তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ নামে পরিচিত। রামাযানে এশার পর প্রথম রাতে পড়লে তাকে ‘তারাবীহ’ এবং রামাযান ও অন্যান্য সময়ে শেষরাতে পড়লে তাকে ‘তাহাজ্জুদ’ বলা হয়।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রামাযানের রাতে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ দু’টিই পড়েছেন মর্মে ছহীহ বা যঈফ সনদে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না’।
মির‘আত ৪/৩১১ পৃঃ, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘রামাযান মাসে রাত্রি জাগরণ’ অনুচ্ছেদ-৩৭।
📖📖📖তারাবির নামাজের রাকাত সংখ্যা!
তারাবির নামাজ ০৮ থেকে শুরু করে ৪০ রাকাত পর্যন্ত।
তবে রসূল (সঃ) রাতের নামাজ বিতর সহ ১১ রাকাতের বেশি পড়নে নি। আপনি চাইলে ০৮ থেকে ৪০ রাকাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করতে পারবে। এমন কি তারো বেশি পড়তে পারেন।
তারাবির মূল বিষয় লম্বা কিয়ামে সালাত আদায় করা অর্থাৎ দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে আদায় করা। রাসুল (সাঃ) এর ৮ রাকাত শেষ করতে প্রায় ফজর হয়ে যেত। বর্তমানে আমাদের উপমহাদেশে এই সালাতের রাকাত সংখ্যা নিয়ে প্রচুর বিরোধ দেখা যায় এমনকি এটা নিয়ে বিভিন্ন দলে উপদলেও মানুষ বিভক্ত হয়ে যায় এবং কোথাও বা বিবাদে লিপ্ত হতে দেখা যায়। মূল বিষয় হচ্ছে আপনি ইমামের সাথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিয়াম করবেন তা ৮ রাকাত হোক বা ২০ রাকাত হোক। রাকাতের সংখ্যা নিয়ে নিজেদের ভিতরে বিভেদ সৃষ্টির কোন অবকাশ নেই কেননা রাসুল (সাঃ) রাকাতের সংখ্যা ফিক্সড করে দেন নাই বরং তা উন্মুক্ত। আপনি যদি একাকী ঘরে আদায় করেন তো ২ রাকাত ২ রাকাত করে যত রাকাত খুশি আদায় করতে পারেন আর শেষ করতে চাইলে ১ রাকাত বিতর আদায় করে নিবেন (বিতর ১, ৩, ৫ বা ৭, ৯ রাকাত দিয়ে আদায় করা যায়)। তবে আমাদের দেশে দ্রুতবেগে কিরাত করে যেভাবে তারাবী আদায় করা হয় তা কোন ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং সুন্নাতের বরখেলাপ। সূরা কিরাত হতে হবে স্বাভাবিক গতিতে, ১ ঘণ্টায় ২০ রাকাত আদায় করা থেকে ১ ঘণ্টায় ৮ রাকাত উত্তম তেমনি ১ ঘণ্টায় ৮ রাকাত থেকে দেড় ঘণ্টার ২০ রাকাত উত্তম। মূল বিষয় কত সময় এবং কত সুন্দর ভাবে আপনি এই সালাত আদায় করেছেন এটাই মুখ্য, রাকাতের সংখ্যা মুখ্য নয়। সংযুক্তিঃ বাংলা হাদিস। এখানে মনে রাখতে হবে যে আপনি নামাজের সূরা দুআ কত সুন্দর মধুর আর আস্তে আস্তে বিশুদ্ধ ভাবে পড়ছেন। রাকার বড় বিষয় নয়।
📖📖📖কি ভাবে তারাবির নামাজ আদায় করতে হবে?
দুই রাকাত করে নামাজ পড়তে হবে। প্রথমত দুই রাকাত শেষ করে আবার দুই রাকাত। মোট চার রাকাত। দুই থেকে তিন মিনিট বসে থাকুন। আবার দুই রাকাত শেষ করে দুই রাকাত। এই ভাবে যতো পারেন।
এবার এক বা তিন রাকাত বিতর নামাজ পড়ুন।
রামাযান বা রামাযানের বাইরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) রাত্রির নামাজ এগার রাক‘আতের বেশী আদায় করেননি। তিনি প্রথমে (২+২) [8] চার রাক‘আত পড়েন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি (২+২) চার রাক‘আত পড়েন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিন রাক‘আত পড়েন।
(১) বুখারী ১/১৫৪ পৃঃ, হা/১১৪৭; (২) মুসলিম ১/২৫৪ পৃঃ, হা/১৭২৩; (৩) তিরমিযী হা/৪৩৯; (৪) আবুদাঊদ হা/১৩৪১; (৫) নাসাঈ হা/১৬৯৭।
——///আসুন আমরা সবাই বেশি বেশি ইবাদত করি।
—–✔✔✔দুটি কথা যা বলতেই হয়✔✔✔
তারাবি কয় রাকাত এই নিয়ে আমরা বিবাদ না করে আমাদের আমলে সুন্দর হবে কীভাবে সে দিকে মন দেই।তারাবি ফরজ না।কাজেই জোড় দিয়ে ২০ বা ৮ রাকাত বলে বিভ্রান্ত করবেন না।আপনাদের এইসব কারনে যারা নতুন দ্বীনের পথা আসে তারা হতাশ হয়ে সেই পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়।কাজেই তারাবি পড়ুন কিয়াম সুন্দর করে।রাকাত নিয়ে মারামারি বা একজন আরেকজন কে গালাগালি দিয়ে জাহান্নাম কিনে নিবেন না ঃ-
মানুষ তো তার অসংযত কথাবার্তার কারণেই অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে
-[তিরমিযী হা/২৬১৬; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৭৩; ইরওয়া হা/৪১৩]
.
অশ্লীলভাষী ও উগ্র মেজাজি জান্নাতে যাবে না : হারেছা বিন ওহাব (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘অশ্লীলভাষী ও উগ্র মেজাজি ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। ’ (আবু দাউদ : ৪১৬৮)
তুমি উপদেশ দিতে থাকো,এতে লাভ হোক আর না হোক,যার অন্তরে ভয় আছে সে গ্রহন করবে,আর যে হতভাগা সে পাশ কাটিয়ে যাবে।
(সুরা আল আলা)
তারাবি নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে।
- ২০ রাকাত:
- অধিকাংশ হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি এবং হানবলি মাজহাবের অনুসারীরা ২০ রাকাত তারাবি নামাজ আদায় করাকে সুন্নাত মনে করেন।
- খলিফা উমর (রা.) এর সময় সাহাবায়ে কেরাম ২০ রাকাত তারাবি নামাজ জামাতে আদায় করতেন (বুখারি, মালিকের মুয়াত্তা)।
- হারামাইন (মক্কা ও মদিনা) সহ বিশ্বের অনেক দেশেই ২০ রাকাত তারাবি পড়া হয়।
- ৮ রাকাত:
- কিছু বিদ্বান মনে করেন, তারাবির জন্য নির্দিষ্ট রাকাত সংখ্যা নেই, বরং নবী (সা.) সাধারণত রাতের তাহাজ্জুদসহ ৮ রাকাত নামাজ আদায় করতেন (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)।
- তাই তারা মনে করেন, ৮ রাকাত তারাবি পড়লেও সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।
- ২০ রাকাত পড়া অধিক ফজিলতপূর্ণ কারণ সাহাবায়ে কেরাম এটি নিয়মিত আদায় করেছেন এবং অধিকাংশ মাজহাব এটিকেই অনুসরণ করে।
- তবে ৮ রাকাত পড়লেও তারাবি আদায় হবে এবং এটি নিয়ে বিতর্কের প্রয়োজন নেই।
অর্থাৎ, তারাবি ৮ রাকাত হোক বা ২০ রাকাত, মূল উদ্দেশ্য হলো রমজানে কিয়ামুল লাইল (রাতের নামাজ) আদায় করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
তারাবি নামাজ
তারাবি নামাজ রমজান মাসের বিশেষ নফল নামাজ, যা এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর আদায় করা হয়। এটি সুন্নতে মুআক্কাদা (নবী ﷺ ও সাহাবিরা নিয়মিত আদায় করেছেন)।
তারাবি নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- রাসূল (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রাতের নামাজ (তারাবি) আদায় করবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।“
(সহিহ বুখারি: ২০০৮, সহিহ মুসলিম: ৭৬০) - জামাতে আদায় করা সুন্নাত
- রাসূল (সা.) কয়েকদিন সাহাবিদের সঙ্গে জামাতে তারাবি পড়েছিলেন, কিন্তু পরে বন্ধ করেন এই আশঙ্কায় যে, এটি ফরজ হয়ে যেতে পারে (বুখারি: ১১২৯)।
- খলিফা উমর (রা.) সাহাবিদের একত্র করে ২০ রাকাত তারাবি জামাতে আদায়ের ব্যবস্থা করেন (মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২৫০)।
🔹 অধিকাংশ ফকিহ ও মাজহাব মতে ২০ রাকাত সুন্নাত।
🔹 কেউ চাইলে ৮ রাকাতও পড়তে পারেন।
✅ মক্কা–মদিনায় ২০ রাকাত পড়া হয়।
✅ ৮ বা ২০ যাই হোক, মূল বিষয় হলো ধারাবাহিকভাবে পড়া।
তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম
- নিয়ত করুন:
“আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ২ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করছি, আল্লাহু আকবার।“ - প্রতি ২ রাকাত করে সালাম ফিরিয়ে পড়তে হয়।
- সাধারণত ১০ বা ২০ আয়াত করে পড়া হয়।
- প্রতি ৪ রাকাত পর বিশ্রাম (তারবিহা) নেওয়া যায়।
- নামাজ শেষে বিতর নামাজ পড়া উত্তম।
উপসংহার
✅ তারাবি রমজানের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
✅ ৮ বা ২০ রাকাত, যাই হোক, নিয়মিত পড়াই মূল কথা।
✅ কুরআন শ্রবণ ও রাতের ইবাদতের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তারাবি নামাজ পড়ার তাওফিক দিন, আমিন! 🤲
শবে মেরাজের আমল ও ফজিলত সম্পর্কে জেনে নিন
Eid-ul-fitr/ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ম জেনে নিন
শবে কদরের আমল ও ফজিলত সম্পর্কে জেনে নিন
আরো নিয়োমিত তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন ভয়েস অফ দেশ